বাবাসাহেব ভারতের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যকে মজবুত করতে এবং এগিয়ে নিয়ে যেতে এক সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ৯৫তম বার্ষিক বৈঠকে এবং উপাচার্যদের জাতীয় সম্মেলনে ভাষণ দিয়েছেন। তিনি বাবাসাহেব ডঃ বি আর আম্বেদকরকে নিয়ে রচিত শ্রী কিশোর মাকওয়ানার চারটি বইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেন। এই উপলক্ষে গুজরাটের রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী ছাড়াও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। আমেদাবাদে ডঃ বাবাসাহেব আম্বেদকর উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী কৃতজ্ঞ জাতির পক্ষ থেকে ভারতরত্ন বাবাসাহেব ডঃ আম্বেদকরের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। বাবাসাহেবের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে তিনি বলেন, তাঁর জন্মজয়ন্তী এমন সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন সমগ্র দেশ আজাদি কা অম্রুত মহোৎসব উদযাপন করছে। স্বাভাবিকভাবেই বাবাসাহেবের জন্মজয়ন্তী এবং আজাদি কা অম্রুত মহোৎসব আমাদের আরও নতুন করে প্রাণশক্তি যোগাচ্ছে।
শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, ভারত বিশ্বে গণতন্ত্রের পীঠস্থান এবং আমাদের সভ্যতা ও জীবনচক্রের এক অখণ্ড অংশই হল গণতন্ত্র। বাবাসাহেব ভারতীয় গণতন্ত্রের ঐতিহ্যকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুসরণ করে এগিয়ে চলার এক দৃঢ় ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
বাবাসাহেবের আদর্শের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডঃ আম্বেদকর জ্ঞান, আত্মসম্মান ও বিনম্রতাকে তাঁর তিনটি কর্তব্য হিসেবে মনে করতেন। জ্ঞান থেকে আসে আত্মমর্যাদা এবং এই আত্মমর্যাদা একজন ব্যক্তিকে তাঁর অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে। সমানাধিকারের মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতির বিন্যাস ঘটে এবং দেশ অগ্রগতির পথে এগিয়ে চলে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিরও বাবাসাহেবের দেখানো পথ অনুসরণ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পালন করা উচিৎ বলে শ্রী মোদী অভিমত প্রকাশ করেন।
জাতীয় শিক্ষানীতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রত্যেক পড়ুয়ার নির্দিষ্ট কিছু সক্ষমতা রয়েছে। এই সক্ষমতা প্রত্যেক ছাত্র ও শিক্ষক-শিক্ষিকার কাছে তিনটি প্রশ্নের জন্ম দেয়। প্রথমত, তাঁরা কি করতে পারেন? দ্বিতীয়ত, যদি তাঁরা সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে থাকেন তাহলে তাঁদের সম্ভাবনা কি? তৃতীয়ত, তাঁরা কি হতে চান? প্রথম প্রশ্নের উত্তর হল, একজন ছাত্র বা ছাত্রীর নিজস্ব সক্ষমতা। অবশ্য, এই সক্ষমতার সঙ্গে যদি প্রাতিষ্ঠানিক সুব্যবস্থার যোগসূত্র গড়ে তোলা যায় তাহলে ছাত্রছাত্রীদের উন্নয়নের পথ আরও প্রশস্ত হয় এবং তারা জীবনে যা হতে চায় তা অর্জন করা সম্ভব হয়। ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনকে উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় উন্নয়নে ছাত্রছাত্রীদের সামিল করে এবং শিক্ষার মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায়ন ঘটিয়ে ডঃ রাধাকৃষ্ণনের দৃষ্টিভঙ্গিগুলি পূর্ণ করার চেষ্টা হচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমগ্র বিশ্বের কথা বিবেচনায় রেখে প্রণয়ন করতে হবে যাতে শিক্ষার ক্ষেত্রে ভারতের নীতিগুলিও সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
আত্মনির্ভর ভারত গঠনের ক্ষেত্রে দক্ষতার ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অফ থিংস, বিগ ডেটা, ত্রিমাত্রিক মুদ্রণ, ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি ও রোবোটিক্স, মোবাইল প্রযুক্তি, জিও-ইনফরমেটিক্স, স্মার্ট হেলথ কেয়ার এবং প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ কেন্দ্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। দক্ষতার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে দেশের তিনটি মহানগরে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ স্কিলস প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে। মুম্বাইয়ে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ স্কিলস প্রতিষ্ঠানে প্রথম ব্যাচের পঠনপাঠন ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। ২০১৮-তে ন্যাসকম-এর সঙ্গে সহযোগিতায় ফিউচার স্কিলস ইনিশিয়েটিভ-এর সূচনা হয়। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের অধ্যয়নে আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা দিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির একাধিক শিক্ষণকেন্দ্র থাকা উচিৎ। তিনি এই লক্ষ্য পূরণে উপাচার্যদের আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। বাবাসাহেব আম্বেদকরের সমানাধিকার এবং সমান সুযোগ-সুবিধার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই লক্ষ্যে প্রত্যেক ব্যক্তিকে অর্থ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে জন ধন অ্যাকাউন্ট চালু করা হয়েছে। এমনকি, এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নগদ হস্তান্তর ব্যবস্থায় সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। দেশের প্রতিটি ব্যক্তির কাছে বাবাসাহেবের আদর্শকে পৌঁছে দিতে সমগ্র দেশের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাবাসাহেবের স্মৃতি বিজড়িত জায়গাগুলির মানোন্নয়নে ‘পঞ্চতীর্থ’ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বাবাসাহেবের স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকার জল জীবন মিশন, নিখরচায় গৃহ, বিনামূল্যে বিদ্যুৎ এবং মহামারীর সময় সাহায্যের একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে মহিলাদের ক্ষমতায়নেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী বাবাসাহেব আম্বেদকরের সমগ্র জীবন সম্পর্কে শ্রী কিশোর মাকওয়ানার লেখা চারটি বইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেন। এই বইগুলি হল – ‘ডঃ আম্বেদকর জীবন দর্শন’, ‘ডঃ আম্বেদকর ব্যক্তি দর্শন’, ‘ডঃ আম্বেদকর রাষ্ট্র দর্শন’ এবং ‘ডঃ আম্বেদকর আয়াম দর্শন’।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই বইগুলিতে কেবল আধুনিক ইতিহাস নয়, বরং বাবাসাহেবের সর্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্রছাত্রীরা এই বইগুলি আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠ করবে বলেও প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
Comments
Post a Comment